৩ বছর মেয়াদী ৫৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে পিআরএসপি বাস্তবায়ীত হচ্ছে।
দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পি,আর,এস,পি)। তিন বছর মেয়াদি এ কৌশলপত্র বাস্তবায়িত হবে ২০০৯-২০১১ সালের মধ্যে। এতে ৫৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা থাকবে। ২৫ লাখ ৫০হাজার কোটি টাকার এ কৌশলপত্র জাতীয় অর্থনীতি কাউন্সিলের (এনইসি) বৈঠকে পিআরএসপির খসড়া অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর অ্যাকসেলারেটেড পোভার্টি রিডাকশন- ২ শীর্ষক দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯ লাখ বেকারসহ আগামী তিন বছরে দেশে বেকারসংখ্যা দাঁড়াবে ২৩ লাখ। এ বেকারত্ব মোকাবেলায় কৌশলপত্রে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বনায়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানব উন্নয়ন বিষয়ে বিষেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে শ্রমশক্তি বাড়ছে ব্যাপক হারে। ২০১১ সালে শ্রমশক্তি বেড়ে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৮৩ লাখে। আর শুধু তিন বছরে এ বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৪ লাখ। এ জন্য বিনিয়োগ উংসাহিত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকাকে বেকারত্ত হ্রাসের লক্ষ্যে ৭৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আড়াই লাখ কোটি টাকার এ কৌশলপত্রে মোট ২১ টি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯ হাজার কোটি টাকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে । অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মধ্য মেয়াদি ম্যাক্রো অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে জিডিপি ৬ দশমিক ৭ বাগ, ২০১০ সালে ৭ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পিআরএসপিতে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ কমানোর পাশাপাশি ভ্যাটও আয়করের আওতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। এতে বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে বলা হয়, বেকার সমস্যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের কতা ভাবছে। এর ময়্যে রয়েছে চাকরিবন্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, অভিবাসী প্রমিকের সংখ্যাবদ্ধি এবং মাইক্রোক্রেডিটসহ বিশেষ কর্মসংস্থান স্কিম। কৌশলপত্রে বলা হয়, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে যেখানে অভিবাসী শ্রমিকের বার্ষিক প্রবাহ ছিল ৬ হাজার ৮৭ জন, সেখানে ২০০৭ সালে এসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ২২৩ জনে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার১.৭ শতাংশ। সরকার ২০০০৮-০৯ অর্থবচরে লিন সিজনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চাকরি নিশ্চয়তা কর্মসূচি চালু করবে। এ নতুন কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পদান করা। সরকার যদি কাজ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নগদ অর্থ প্রদান করবে।